
হুমায়ুন মিয়া:
সম্প্রতি কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় নরসিংদীসহ বিভিন্ন এলাকায় ভোক্তাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সরকারিভাবে কয়েক দফা ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান পরিচালিত হলেও জেলার বাজারগুলোতে গ্যাসের দামে এর তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি।
শহরাঞ্চলে সীমিত পরিসরে অভিযান চললেও গ্রামাঞ্চলের বাজারগুলো কার্যত নজরদারির বাইরে রয়েছে। বালাপুর বাজারের গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ী আবু তাহের জানান, তিনি গোপালদী এলাকা থেকে সাড়ে ১৭শ’ টাকায় ফ্রেশ এলপি গ্যাস সিলিন্ডার পাইকারিতে কিনে এনে ১৮শ’ টাকায় খুচরা বিক্রি করছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভোরবেলায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মো. হানিফ সরকার গ্যাস কিনতে এসে দোকানদারের সঙ্গে দাম নিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরে তিনি ১ হাজার ৭২০ টাকায় একটি ফ্রেশ গ্যাস সিলিন্ডার কিনে নেন।
নরসিংদী জেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, একই কোম্পানির গ্যাস সিলিন্ডার ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। কোথাও ১ হাজার ৮০০ টাকা, কোথাও ১ হাজার ৯০০ টাকা আবার কোথাও ২ হাজার টাকাতেও বিক্রি হচ্ছে। অথচ সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৩০৬ টাকায় গ্যাস বিক্রির কোনো নজির পাওয়া যায়নি।
এদিকে, নিয়মিত গ্যাস ব্যবহারকারীদের একটি বড় অংশ এখন বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। অনেকেই মাটির চুলা কিংবা ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার শুরু করেছেন। এতে করে আগের তুলনায় গ্যাস সিলিন্ডারের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে জানান স্থানীয় গ্যাস ব্যবসায়ী হোসেন আলী।
মাধবদী শহরের হাজীপাড়া এলাকার এক ভাড়াটিয়া গৃহিনী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, “গ্যাসের দাম বাড়ায় আমাদের সংসারের খরচ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।”
এছাড়াও শহর ও গ্রামাঞ্চলের বহু দোকানে গিয়ে দেখা গেছে, গ্যাস সিলিন্ডারগুলো অরক্ষিত অবস্থায় দোকানের বাইরে খোলা জায়গায় ফেলে রাখা হচ্ছে। অধিকাংশ ব্যবসায়ীর নেই গ্যাস বিক্রির কোনো বৈধ লাইসেন্স কিংবা দুর্ঘটনা মোকাবিলার প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ। সচেতন মহলের আশঙ্কা, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এসব সিলিন্ডার থেকে যেকোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।