
রায়পুরা (নরসিংদী) সংবাদদাতা:
নরসিংদীর রায়পুরার শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী ও খ্যাতনামা ‘বাদশাহভোগ’ মিষ্টি এবার জিআই পণ্যের স্বীকৃতির প্রস্তাবনায় বাংলাদেশ শিল্প মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এ বিষয়ে লিখিতভাবে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা তার কার্যালয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে বাদশাহভোগ মিষ্টিকে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতির আবেদনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে রায়পুরার ঐতিহ্যবাহী এই মিষ্টিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘বাদশাহভোগ’ মিষ্টিকে দেশের ২৭তম প্রস্তাবিত জিআই পণ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সবকিছু অনুকূলে থাকলে শিগগিরই রায়পুরার এই ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি জিআই পণ্যের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির আলো দেখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে, নরসিংদীর বিখ্যাত সাগরকলা ও লটকন ইতোমধ্যেই জিআই পণ্যের মর্যাদা পেয়েছে। এবার বাদশাহভোগ সেই কাতারে যুক্ত হলে রায়পুরা নতুনভাবে দেশের গর্বের প্রতীক হিসেবে জায়গা করে নেবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
প্রায় দেড়শ বছরের ঐতিহ্য বহনকারী ‘বাদশাহভোগ’ মিষ্টি রায়পুরার সংস্কৃতি ও গর্বের প্রতীক হিসেবে সমাদৃত। খাঁটি গাভীর দুধ, নিখুঁত কারিগরি ও প্রজন্ম ধরে চলে আসা ঐতিহ্যবাহী রেসিপিতে তৈরি এই মিষ্টি অতুলনীয় স্বাদের জন্য সুপরিচিত। প্রতিটি মিষ্টির ওজন প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। এর রসালো, নরম ও মুখরোচক স্বাদ একবার খেলে ভুলে যাবার নয়। যার কারণে রায়পুরায় বেড়াতে এসে ‘বাদশাহভোগ’ না কিনে কেউ ফিরে যান না।
রায়পুরা বাজারের মধুময় মিষ্টিঘরের মালিক রাজীব কুমার গোপসহ একাধিক মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী জানান, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও সুনামের কারণে ‘বাদশাহভোগ’ মিষ্টি রায়পুরার অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেলে এর ব্র্যান্ডিং, মানোন্নয়ন ও বাজার সম্প্রসারণের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে তারা মনে করেন।
ই-কমার্স ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের চেয়ারম্যান কাকলী তালুকদার বলেন, তিন বছর ধরে সারা দেশে জিআই পণ্য নিয়ে কাজ করছি। আজ রায়পুরার জন্য দিনটি ঐতিহাসিক। নরসিংদীতে সাগর কলা ও লটকন জিআই স্বীকৃতি পেলেও কোনো উপজেলা থেকে আবেদন হয়নি। ২০২৩ সালে রায়পুরার তৎকালীন ইউএনওকে কথা দিয়েছিলাম এ উপজেলার কোনো ঐতিহ্যবাহী পণ্যকে জিআই করার চেষ্টা করবো। সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ‘বাদশাহভোগ’ মিষ্টি নিয়ে কাজ করে যতটুকু সম্ভব উপজেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করেছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা বলেন, রায়পুরার ‘বাদশাহভোগ’ শুধু একটি মিষ্টি নয়-এটি আমাদের ঐতিহ্যের প্রতীক। জিআই স্বীকৃতি পেলে এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রায়পুরাকে নতুনভাবে তুলে ধরবে।
রায়পুরার মানুষের আশা, বহু প্রজন্মের ঐতিহ্য ও গৌরবের ধারক এই ‘বাদশাহভোগ’ মিষ্টি শিগগিরই জিআই স্বীকৃতি পেয়ে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে।