নরসিংদী প্রতিনিধি:
মানব পাচার থেকে উদ্ধারপ্রাপ্ত নারী ও পুরুষদের পুনর্বাসন, সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, সমন্বিত সেবা নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই পুনরেকত্রীকরণের লক্ষ্যে নরসিংদীতে দুই দিনব্যাপী অংশীজন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের অর্থায়নে, উইনরক ইন্টারন্যাশনালের কারিগরি সহযোগিতায় এবং ওয়ারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (WARBE Development Foundation)-এর বাস্তবায়নে পরিচালিত ‘আশ্বাস: মানব পাচার থেকে উদ্ধারপ্রাপ্ত নারী ও পুরুষদের জন্য’ (Phase II) প্রকল্পের আওতায় গত ৪ ও ৫ নভেম্বর স্থানীয় অরবিট রেস্টুরেন্টে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবু তাহের মো. সামসুজ্জামান।
দুই দিনব্যাপী কর্মশালায় মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের প্রয়োজন ও চাহিদা নিরূপণ, কেস ম্যানেজমেন্ট প্রক্রিয়া, ব্যক্তিভিত্তিক সেবা পরিকল্পনা এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, মানব পাচার থেকে উদ্ধারপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের শুধু উদ্ধার করাই যথেষ্ট নয়; তাঁদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, সামাজিক মর্যাদা এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করাও জরুরি। এ ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
কর্মশালার সমাপনী দিনে নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. গুলশান আরা কবির কাউন্সেলিং কর্নারের স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় তিনি ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়ারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের প্রজেক্ট ম্যানেজার আতাউর রহমান, সিনিয়র ম্যানেজার (ইকোনমিক সার্ভিস) মো. গোলাম ফজলে রব্বানী, পলিসি অ্যাডভোকেসি স্পেশালিস্ট মৃন্ময় মহাজন, সিনিয়র ম্যানেজার (সোশ্যাল সার্ভিস) নাজমুল ইসলাম, রিজিওনাল কো-অর্ডিনেটর অসিত ব্যানার্জী, কেস ম্যানেজার (সোশ্যাল সার্ভিস) রিয়েনা হক নিঝু, কেস ম্যানেজার (ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট) সুস্মিতা দাস, আমীরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত সদস্য খালেদা পারভীন, সাইকো-সোশ্যাল কাউন্সিলর ফাতেমা তুজ জোহরা মেঘলা ও সুমাইয়া রিনি।
এ ছাড়া কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, স্থানীয় সামাজিক প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ কর্মশালার মাধ্যমে মানব পাচার থেকে উদ্ধারপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সমাজে সম্মানজনকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ আরও সুগম হবে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি ও বেসরকারি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও জোরদার হবে।