
নরসিংদী প্রতিনিধি:
বিদেশফেরত অভিবাসীদের টেকসই পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে স্থানীয় নিয়োগদাতাদের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ স্থাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন নরসিংদী টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) অধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া।
বুধবার সকালে নরসিংদীর অরবিট রেস্টুরেন্টে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের উদ্যোগে আয়োজিত “প্রত্যাবর্তিত অভিবাসীদের চাকরি সংস্থানে স্থানীয় নিয়োগদাতাদের সাথে লিয়াজোঁ কর্মশালা”-য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিদেশ থেকে ফিরে আসা অনেক অভিবাসী দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও দেশে উপযুক্ত কর্মসংস্থান পান না। তাদের দক্ষতা অনুযায়ী স্থানীয় শিল্প-কারখানায় যুক্ত করা গেলে তা ব্যক্তি ও জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম শ্রম রপ্তানিকারক দেশ। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে প্রায় ২২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে, যা দেশের জিডিপির প্রায় ৭ শতাংশ। তবে নানা কারণে প্রতিবছর অনেক অভিবাসী দেশে ফিরে এসে কর্মসংস্থান, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও আর্থিক স্থিতিশীলতার মতো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে ফেরার এক বছরের মধ্যে প্রায় ৬৮ শতাংশ অভিবাসী বেকার বা আংশিক বেকার থাকেন।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের ম্যানেজার নাজিবা আক্তার। তিনি প্রত্যাবর্তিত অভিবাসীদের দক্ষতা ও স্থানীয় শ্রমবাজারের চাহিদার মধ্যে বিদ্যমান ফাঁক তুলে ধরে কার্যকর সংযোগ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নরসিংদী জেলার ডিস্ট্রিক্ট কো-অর্ডিনেটর ফারজানা ফারায়েজী। তিনি বলেন, এ কর্মশালার মাধ্যমে বিদেশফেরতদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং টেকসই পুনর্বাসন জোরদার করাই মূল লক্ষ্য।
কর্মশালায় প্যানেল আলোচনা, মতবিনিময় এবং দক্ষতা উন্নয়ন ও চাকরি সংযোগ বিষয়ে ইন্টারেক্টিভ সেশন অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারী নিয়োগদাতারা দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মী পেলে বিদেশফেরতদের অগ্রাধিকার দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এতে থারমেক্স গ্রুপ, নরসিংদী চেম্বার অব কমার্স, চর্কা টেক্সটাইল, রেডেক্স, দারাজ, ওয়ালটন প্লাজা, লেবার অ্যাসোসিয়েশন, বিআরটিসি, সিবিসি টাইলস, আদরি টেক্সটাইল, মোমিন টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কর্মশালার মাধ্যমে বিদেশফেরত অভিবাসীদের দক্ষতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিতকরণ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদার হবে বলে প্রত্যাশা করা হয়।
উল্লেখ্য, সুইজারল্যান্ড সরকারের সহায়তায় বাস্তবায়িত “রিইন্টিগ্রেশন অব মাইগ্র্যান্ট ওয়ার্কার্স ইন বাংলাদেশ” প্রকল্পের আওতায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ অভিবাসন, পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কাজ করে যাচ্ছে।