নরসিংদী প্রতিনিধি:
মাধবদী থানার পাইকারচর ইউনিয়নের চরভাসানিয়ায় ঈদগাঁর খতিব মাওলানা হাবিবুর রহমান এবং মাদ্রাসার প্রধান হুজুর মুফতি হাবিবুল্লাহ মধ্যে কোরআন শরীফের সূরা পড়ার ভুল ধরা নিয়ে বিভাজন শুরু হয়।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৯ জুন ২৩) পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজে সুরা পড়ায় ভুল ধরা নিয়ে বিরোধ বাঁধে ঈদগাঁর খতিব মাওলানা হাবিবুর রহমানের সাথে মাদ্রাসার প্রধান মুহতামিম বা প্রধান হুজুর মুফতি হাবিবুল্লাহ মধ্যে।
স্থানীয়রা জানান, ঈদগাঁর খতিব মাওলানা হাবিবুর রহমান দীর্ঘ দিন যাবৎ ঈদের নামাজ পড়াচ্ছেন। কিন্তু মাদ্রাসার হুজুর মুফতি হাবিবুল্লাহ এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তার করতে এলাকার মানুষের কাছে হাবিবুর রহমানের পড়ায় ভুল হয় এবং তাকে ঈদগাঁর খতিব থেকে বাদ দিতে এলাকার সাধারণ মানুষ কে উস্কে দিয়ে এলাকায় ধর্মীয় সংঘর্ষ বাধাবার চেষ্টা করেন।
এতে এলাকার সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফুঁসে উঠে এবং হাবিবুল্লাহর পদত্যাগ দাবিসহ তার মাদ্রাসা থেকে অপসারণ চেয়ে ব্যানার হাতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
পরে বিষয়টি কে গুরুত্ব দিয়ে গতকাল সোমবার (৩ জুলাই ২৩) বিকাল ৩টায় মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি ডাক্তার মোঃ মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে জরুরি সভা ডাকেন মাদ্রাসা মিলনায়তনে।
এতে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আফতাব উদ্দিন ভূইয়া, মাধবদী থানা আওয়ামী লীগের আহবায়ক ও সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ সিরাজুল ইসলাম, পাইকারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আবুল হাসেম, পাইকারচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহিদুল্লা মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ স্বাক্ষীদের জবানবন্দি নেন, ভুক্তভোগী মাওলানা হাবিবুর রহমান এর জবানবন্দি নেন। পরে সভায় সিদ্ধান্ত হয়, মুফতি হাবিবুল্লাহ এক সপ্তাহের জন্য ছুটিতে থাকবেন এবং তিন সদস্যের একটি কমিটি ঘটনার সত্যতা নিরূপণ করে রিপোর্ট দিলে সেই রিপোর্ট অনুসারে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
পরে সভা সমাপ্ত ঘোষণা করলে স্থানীয়রা মুফতি হাবিবউল্লাহর বহিষ্কারসহ তার নানান অপকর্ম তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে স্লোগান দিতে থাকেন।
এবিষয়ে মুফতি হাবিবুল্লাহর বক্তব্য নিতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের বক্তব্য না দিয়েই চলে যান।
বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর সাথে কথা বললে তারা সাংবাদিকদের বলেন তার বাড়ি ময়মনসিংহ। তিনি আমাদের মাদ্রাসায় চাকরি করে এত দ্রুত সময়ের মধ্যে নিজস্ব বাড়ি-গাড়ি কিভাবে করলেন তা নিয়েও প্রশ্ন তুলে বলেন, তাকে মাদ্রাসায় বহাল রাখলে এলাকাবাসী তা মানবে না এবং যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা করেন।
সচেতন মহল মনে করেন, বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে সঠিক ভাবে মিমাংসা করলে এলাকাবাসী খুশি হবে।