খন্দকার শাহ নেওয়াজ:
নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার আমীরগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ মির্জানগর গ্রামের প্রয়াত হাফেজ আব্দুল ওহাবের ছেলে ফকরুল হাসান। তিনি এলাকায় একজন সাহিত্যিক, লোক সংস্কৃৃতিক গবেষক ও সংগ্রাহক হিসেবে পরিচিত।
১৯৮৮ সালে মামা হাফেজ মাওলানা কেরামত আলীর দেওয়া পাঁচটি এক টাকার নোট সযত্নে রাখতে গিয়ে টাকার প্রতি ভালোবাসা জন্মে। তার পর থেকে টাকা সংগ্রহের নেশা তৈরি হয় নিজের মাঝে। সেই থেকে এখন পর্যন্ত তিনি বিশ্বের ১৩০টি দেশের টাকা সংগ্রহ করেছেন। বিলুপ্ত হওয়া প্রাচীন মুদ্রাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুদ্রা, ডাক টিকিট, স্মারক, তামা-কাঁসা, কুপিবাতি, হারিকেন, পুরানো দিনের টেলিফোন ইত্যাদি তিনি সংগ্রহ করে রেখেছেন।
এরপর থেকে প্রায় ৩৫ বছর ধরে বিভিন্ন মাধ্যমে টাকা ও হারিয়ে যাওয়া বিলুপ্ত প্রায় জিনিসপত্র সংগ্রহ করে আসছেন। নিজের সংগ্রহে থাকার জিনিসগুলো রাখতে, নিজ বাড়িতেই গড়ে তুলেছেন মিনি মিউজিয়াম। নাম দিয়েছেন ‘সংগ্রহশালা’।
ফকরুল হাসান ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে উঠা সংগ্রহশালা নিয়ে বলেন, ‘টাকা সংগ্রহ করা আমার একটি শখ। আমি নিজের চাহিদার জন্য টাকা সংগ্রহ করছি না। আগামী প্রজন্মকে জানানোর জন্য আমার এই সংগ্রহশালা। এখন পর্যন্ত ১৩০টি দেশের মুদ্রা সংগ্রহ করেছি। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, নেদারল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, জাপান, জার্মান, আমেরিকা ইত্যাদি দেশের মুদ্রা আমার কাছে আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশে যেমন এক টাকা থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত আছে তেমন অন্যান্য দেশের এক টাকা থেকে শেষ পর্যন্ত যেই টাকাটা আছে সেটাও আমি আমার সংগ্রহে রাখার চেষ্টা করেছি। এই সবগুলো টাকাই আমার অ্যালবামে সযত্নে রাখা আছে।’
তিনি জানান, ১৯৮৮ সাল থেকে মুদ্রা সংগ্রহ শুরু করি। শুরু থেকে অদ্যাবধি আমি টাকা, ধাতব মুদ্রা, ডাকটিকিট, বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক জিনিস সংগ্রহ করেছি। অনেকেই বলতেন এটা তোমার নতুন করে কিসের শখ জাগলো, আবার অনেকে উৎসাহ-অনুপ্রেরণা দিতেন। খুব সুন্দর, অসাধারণ তোমার চিন্তা-চেতনা। আমাকে উৎসাহ জোগানোর পেছনে যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি তার মধ্যে অন্যতম আমার বড় ভাই ডক্টর আবদুল হাই সিদ্দিক।’
সংগ্রহশালার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বলেন, ‘আমি যেন আমার জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত এই সংগ্রহশালায় বসে কাটাতে পারি। আমার শখের সংগ্রহের জিনিসগুলো দেখতে পারি এটাই আমার ইচ্ছা। একটা সময় আমি থাকব না। তবে এই সংগ্রহশালা যেন আজীবন থাকে। যেন দূরদুরান্ত থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এসে এই দেশের ও দেশের বাইরের হারানো দিনের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে, বুঝতে পারে।’

মিনি মিউজিয়াম গড়ার কারণ বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আগেকার দিনে আমার বাবার একটি ঘর ছিল। সবার কাছে সেই ঘরটি ‘বাংলা ঘর’ নামেই পরিচিত। পরিবেশগত কারণে আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী যারা বেড়াতে আসতেন তাদের বাংলা ঘরেই বসানোর ব্যবস্থা করতেন। সে থেকে আমার ইচ্ছা জাগলো আমার যে এত সংগ্রহের জিনিস হচ্ছে এগুলো আমি কোথায় রাখব! কখনো ট্রাংকের ভেতর রাখতাম, কখনো শোকেসে। একসঙ্গে তো কোথাও থাকছে না। তখন থেকেই চিন্তা করলাম বাবার পছন্দের বাংলা ঘরটাকেই আমি সংগ্রহশালায় রূপান্তর করব। সেখানেই সংগ্রহের জিনিস সাজিয়ে রাখব।’