হুমায়ুন মিয়া:
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার সরকারের পতন হয় গত সোমবার (৫ আগস্ট) ২৪ দেশ ও জনগণকে স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার সরকারের হাত থেকে রক্ষা করতে যত ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছে মাধবদীর জামেয়া-ই-এমদাদিয়া দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্র সুমন ছিলো অগ্রভাগে। আন্দোলন যখন জনতার বাধ ভাঙা জোয়ারের মতো এগিয়ে যাচ্ছিল তখন দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া সুমন ছিল তার সামনের সারিতে।
মাধবদীতে পুলিশের গুলি সুমনের বুক ভেদ করে বেরিয়ে যায় এবং সাথে সাথে সে লুটিয়ে পড়ে। তারপর আনন্দোলনকারীর তাকে ধরে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে ঢাকা কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শুক্রবার (২৩ আগস্ট) সকাল ৭টায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। বিভিন্ন মিডিয়াতে সুমনের মৃত্যুর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ পায়।
বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) বিকাল পাঁচটায় মাধবদীতে অবস্থিত পালকি কমিউনিটি সেন্টারে নিহত শহীদ সুমনের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ জামায়াতের মাধবদী শহর শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মুসলেহুদ্দীন।
মাধবদী থানা শহর আমীর আবদুল জব্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মুসলেহুদ্দীন বলেন- জাতি পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য স্বৈরাচারের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে সুমনদের মত শত শত ছাত্র-ছাত্রীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে। এই বিজয় যাতে স্বৈরাচার আবার কেড়ে নিতে না পারে তার জন্য সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহবান জানান তিনি।
মুনাজাত শেষে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে নিহত সুমনের মায়ের হাতে নগদ ২ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়।