শফিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার:
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চাঁনপুর ইউনিয়নের মাঝেরচর গ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে আপন ছোট ভাইদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে মামলা দায়ের করার অভিযোগ উঠেছে বড় ভাই জসিম উদ্দিন (৬০) এর বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (৩০ মে) সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, বড় ভাই জসিম উদ্দিন (৬০) পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে তারই তিন ছোট ভাই মহি উদ্দিন (৩৫), রফিক মিয়া (৩৮) ও জামাল উদ্দিন (৩৩) এর উপর মিথ্যা অভিযোগে আদালতে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য বলে দাবী করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, গত বছরের ০৬ জুলাই দুপুরে মাঝেরচর নৌকা ঘাটে জসিম উদ্দিনকে হত্যার উদ্দেশ্যে মেঘনায় ফেলে দেয়। পরে কয়েকজন লোক এসে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা দিয়ে ভালো করে। এছাড়াও চলতি বছরের ০৩ মে সন্ধ্যায় তার বাড়িতে নির্মাণাধীন ভবনের জন্য রড সিমেন্ট কেনার টাকা নিয়ে বাড়িতে আসার পথে বাড়ির সামনে নৌকা ঘাটে নামলে তার আপন ছোট ভাই অজ্ঞাত কয়েকজন নিয়ে বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে তার সাথে টাকা ছিনতাই করে বলে অভিযোগ করে।
অভিযোগের এ বিষয়গুলোর সত্যতা জানতে তাদের বাড়িতে গেলে সেখানে উপস্থিত স্থানীয় ইউপি সদস্য সহ সকলে ঘটনা শুনে অসত্য, মিথ্যা ও বানোয়াট বলে মন্তব্য করে। তারা জানায়, অভিযোগকারী জসিম একজন দুষ্টু প্রকৃতির লোক। তার বিরুদ্ধে এলাকায় অনেক অপকর্মের কথা রয়েছে। অন্যদিকে তার ছোট ভাইগুলো খুবই শান্ত প্রকৃতির লোক বলে মন্তব্য করেন।
জানতে চাইলে মহি উদ্দিন বলেন, পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে তার ভাই তাকে সহ ৩জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে। তিনি বলেন, তার বড় ভাই জসিমের সাথে তার কোনো প্রকার ঝগড়া বা অভিযোগে উল্লেখিত এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। সে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এমন মিথ্যা অভিযোগ করেছে। তার সাথে জমি নিয়ে কিছু সমস্যা আছে। সামাজিক ভাবে তিনি না মানলে আমি আইনের আশ্রয় নিলে ভবনটির নির্মান কাজ বন্ধ রাখতে পুলিশ নির্দেশনা দেয়। কিন্তু তিনি আইনী বাঁধাকে উপেক্ষা করেই অন্য মিস্ত্রী দিয়ে বাড়ির নির্মান কাজ করাচ্ছেন। শেষে তিনি প্রশাসনের নিকট সকল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত স্বাপেক্ষে বিচার দাবী করেন।
চাঁনপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড সাবেক সদস্য পন্ডিত মেম্বার বলেন, জসিমের সাথে মহি উদ্দিনের এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আজ পর্যন্ত মহিউদ্দিনের নামে আমরা কোনো এমন খবর শুনিনি।
স্থানীয় গ্রাম পুলিশ মতি মিয়া জানায়, মহিউদ্দিন ভাই কখনো এমন কাজ করতে পারেনা। সে এমন লোকই না।
নৌকা ঘাটের সামনে মারামারির বিষয়ে জানতে চাইলে ওই ঘাটের মাঝি মিজানুর রহমান জানান, এই ঘাটে আজ পর্যন্ত এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমি এখানে অনেক দিন যাবত নৌকা চালায়, এমন কিছু ঘটলে অবশ্যই জানতাম।
এছাড়াও জসিম উদ্দিনের করা অভিযোগে উল্লেখিত স্বাক্ষী তার মামা সিরাজ মিয়া বলেন, আমাকে জড়িয়ে যে ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে আমি তার কিছুই জানিনা। এমনকি সে কি কারনে আমাকে এখানে স্বাক্ষী হিসেবে রেখেছে তাও জানিনা। জসিম উদ্দিন আমার সাথে কোনো কিছু না বলে কোনো অনুমতি না নিয়েই আমাকে এখানে স্বাক্ষী রেখেছে। আমার জানামতে এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। এগুলো সব মিথ্যা কথা। তাদের মধ্যে কোনো ধরণের মারামারি ঘটেনি। বা তাকে কেও পানিতে ফেলে দিছে বলেও শুনিনি।
ভবনটির নির্মাণ শ্রমিক খলিল মিয়া জানায়, আজ থেকে প্রায় দু’মাস আগেই এ ভবনের নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। কি কারনে বন্ধ হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুলিশী বাঁধার কারনে তারা নির্মান কাজ বন্ধ করে দেন। পরে জসিম উদ্দিন তাদের বাদ দিয়ে অন্য মিস্ত্রী দিয়ে ৩ দিন আগে কিছু কাজ করিয়েছে।
এ ব্যাপারে অভিযোগকারী জসিম উদ্দিন এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার মা ও মেয়ে জসিম উদ্দিন কোথায় আছে জানেন না বলে জানান। ফলে এ ব্যাপারে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।