শফিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার:
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের মুর্শিদাবাদ গ্রামের এক অসহায় প্রবাসীর স্ত্রীকে যৌন হয়রানি,কু প্রস্তাব ও মেরে ফেলা হুমকির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কুদ্দুস মিয়া, রফিক, তোফাজ্জল ও আফজল গংদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নাছিমা খাতুন গত রবিবার বিকেলে রায়পুরা পৌরসভার পুরান বাজারের ক্রাউন ক্যাফে রেষ্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করেন।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে ভুক্তভোগী নাছিমা খাতুন লিখিত বক্তব্যে বলেন আমার স্বামীর নাম হাসান আলী। আমার শ্বশুর বাড়ি শ্রীনগর ইউনিয়নের রংপুর আমার স্বামীর কোন জমি সম্পত্তি না থাকায় আমি মুর্শিদাবাদ আমার বাবার বাড়িতে বসবাস করি। দীর্ঘ সাত মাস আগে আমার স্বামী প্রবাসে চলে যায় সেই থেকে আমার পাশের বাড়ির কুদ্দুস মিয়া আমাকে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে বিরক্ত, যৌন হয়রানি,কু প্রস্তাব দিয়ে আসিতেছে। গত ২৮/৬/২০২৩ ঈদুল আযহা এর আগের রাত আনুমানিক ১০:৩০ মিনিট আমার ঘরের দরজা খোলা থাকায় কুদ্দুস আমার ঘরে ঢুকে যায় দরজা লাগিয়ে দেই আমাকে একটি মেহেদী এবং কিছু অন্তঃবাস ঈদ উপহার দিতে চাইলে আমি এগুলো না নিয়ে তাকে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বলি, না হয় চিৎকার দিব বলে থাকি।
কুদ্দুস তখন বেরিয়ে যায় এবং হুমকি দেয় এর বিচার খুব দ্রুত পাবো।গত ৩/৭/২০২৩ তারিখ রাত আনুমানিক ৮:২০ মিনিট মুস্তু মিয়ার ছেলে রফিক ও কুদ্দুস মিয়ার ছেলে তোফাজ্জল ও আফজল আমার মেয়েকে ঘরের বাহিরে থেকে মুখে চাপ দিয়ে রফিকদের বিল্ডিং এর একটি রুমে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে আমার মেয়ে তামান্নার জামা-কাপড় খুলে বিবস্র করে ফেলে।আমার মেয়ে চিৎকার দিলে আমার ঘরের পাশে রফিকের বিল্ডিং হয় যাই আমি চিৎকার শুনতে পেরে বিল্ডিং এ গিয়ে আমি আমার মেয়েকে উদ্ধার করি। আমি রায়পুরা থানায় মামলা করতে আসতে চাইলে থানার পাশ থেকে কুদ্দুস রফিক ও তোফাজ্জল আমাকে টেনে হিচড়ে কুদ্দুস মিয়ার বিয়াই এর বাড়িতে নিয়ে যায় এবং সেখানে আমাকে রাত তিনটা পর্যন্ত বন্দী করে রাখে। আমাকে মানাতে না পেরে সাদা কাগজে তাদের দোষ স্বীকার করে লিখিত আকারে কুদ্দুস ইসমাইল ও রফিক এর বাবা স্বাক্ষর করে আমাকে একটি অঙ্গীকারনামা দেয়।
তার পরদিন সকালে কুদ্দুস আমাকে বলে থাকে এই অঙ্গীকারনামাটি শান্তনা দেওয়ার জন্য করছে মাত্র। তারপর থেকে প্রতিদিন রফিক আমার মেয়েকে তার বউ বলে ডাকাডাকি করে ওড়নায় টান মারে। তার ভয়ে আমি আমার মেয়েকে অন্য গ্রামে দিয়ে থাকি গত ৭/৭/২০২৩ তারিখ সকাল আমার মেয়ে আমার বাড়িতে আসলে রফিক আমার মেয়ের হাত ধরে বলে আমার বউ আমার ঘরে চল। তখন আমি থানায় মামলা করব বলে থাকলে কুদ্দুস রফিক, তোফাজ্জল ও আফজলকে হাতে লাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে বলে এবং মামলার চিন্তা করলে মা-মেয়ে দুজনেই ধর্ষণের শিকার হবে এমন হুমকি দেয়। আমি গরিব হওয়ায় আমার স্বামী প্রবাসী হওয়ায় আমার পক্ষে কোন মানুষ নাই আমি রায়পুরা থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছি কিন্তু প্রশাসন কোন পদক্ষেপ নেইনি।
বর্তমানে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আপনাদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী, এমপি,জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নিকট সহযোগিতা কামনা করছি।
অভিযুক্ত কুদ্দুস মিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।