নিজস্ব প্রতিবেদক:
নবীনগরের ইজারাকৃত বালু মহাল সীমানা অতিক্রম করে অবৈধভাবে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার সীমানায় বালু উত্তোলন করার অভিযোগ উঠেছে। একাধিকবার রায়পুরা উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করলেও থামছে না তাদের নিয়মবহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলন কার্যক্রম। ফলে হাপিয়ে উঠছেন স্থানীয় প্রশাসন।
জানা গেছে, নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের জাফরাবাদ মৌজায় অবস্থিত মেঘনা নদী থেকে ৩২ একর নদী সীমানার মধ্যে ১০টি ড্রেজার পরিচালনা করে বালু উত্তোলনের ইজারা পেয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শোভনের মালিকানাধীন মুন্সি এন্টারপ্রাইজ। কিন্তু ইজারা লাভের পর থেকেই অনধিকার রায়পুরা উপজেলার চরমধুয়া ইউনিয়নের মোজায় প্রবেশ করে প্রতিনিয়ত ৩০থেকে ৫০টি চুম্বক ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে মহলটি। এতে চরমধুয়া ইউনিয়নে মারাত্মক ভাঙ্গন সৃষ্টি হতে পারে বলেও ধারনা করছেন স্থানীয়রা।
রায়পুরা উপজেলার সিমানায় বালু উত্তোলনের অভিযোগের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার (১৬জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রানা বালু মহালে অভিযান চালান, কিন্তু অভিযান চালানোর সময় প্রশাসন ও সাংবাদিকদের স্পিডবোটকে লক্ষ করে গুলি করে বালু খেকোরা। পরবর্তী অভিযানে রায়পুরার সীমানায় বালু উত্তোলনের দায়ে ২জনসহ একটি ড্রেজার আটক করে দশ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। তারপরও থেমেই নেই এই অসাধু বালু ব্যবসায়ী চক্রটি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানান, নিজেদের মধ্যে কলহের জেরে ড্রেজার পরিচালনা কে কেন্দ্র করে প্রতিদিন ঝগড়ায় জড়িয়ে পরছেন নবীনগরের ওই বালু হলের দুটি গ্রুপ, একটি হল শোভন মিয়া গ্রুপ অন্যটি হল কালাম ও হানিফ মাস্টার গ্রুপ।
এলাকাবাসীরা আরো জানান, দুটি গ্রুপ প্রতিদিনই গুলি ছোড়াছুড়ি করে এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে থাকে। তাই নদী পাড়ের জমিগুলোতে কাজ করতে এবং নদীতে মাছ ধরতে যাওয়ায় সময় মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকছেন তারা।
উক্ত বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়ার জন্য ড্রেজারের লোকজনের কাছে শোভনের মোবাইল নম্বর চাইলে তারা দিতে অস্বীকার জানায় এবং কালাম মিয়াকে কল দিলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোন বন্ধ করে ফেলেন তিনি।