এ.কে.এম সেলিম
রায়পুরায় ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে ষষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রী ফারজানা কিছুদিন আগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। তার চিকিৎসার জন্য সংগৃহীত তহবিলের অবশিষ্ট টাকা দিয়ে ফারজানার বাবাকে একটি নতুন ভিবাটেক ক্রয় করে দেওয়া হয়।
শুক্রবার (২৪ জুন) বিকেলে মাহমুদাবাদ রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিবাটেক হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন ঘর নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ। এছাড়াও ৫০ হাজার টাকা ফারজানার বড় বোনের বিয়ের সময় ব্যয় করার উদ্দেশ্যে ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছে।
মির্জাপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড মাহমুদাবাদ গ্রামের করিম মিয়ার মেয়ে ফারজানা। দুই বোনের মধ্যে সে ছোট। পড়তো মাহমুদাবাদ রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু উচ্চ বিদ্যালয়ে।
অসহায় দরিদ্র পরিবারের সন্তান ফারজানা যখন দারিদ্রতা ও রোগের যন্ত্রণায় বিনা চিকিৎসায় বিছানায় কাতরাচ্ছিল তখন তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেয় রায়পুরা পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
পূর্বাঞ্চল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তির সহায়তায় প্রায় ৫ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়। ভর্তি করানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজে।কিন্তু ততদিনে খুব দেড়ি হয়ে যায়। মরণ ব্যাধি ক্যান্সার ফারজানাকে বাঁচতে দেয়নি। শত শত স্বেচ্ছাসেবককে কাঁদিয়ে চলে যায় না ফেরার দেশে। চিকিৎসার জন্য সংগৃহীত তহবিলে অবশিষ্ট থাকে ৩ লাখ টাকা।আর এই টাকা দিয়েই ফারজানার বাবা করিম মিয়াকে কর্ম সংস্থানের জন্য একটি ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা (ভিবাটেক), নতুন ঘর ও বড় বোনের বিয়ের জন্য ৫০ হাজার টাকা ব্যাংক জমা রাখা হয়।
ভিবাটেক হস্তান্তর করার সময় উপস্থিত ছিলেন মাহমুদাবাদ রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া, কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা ও মাহমুদাবাদ রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অভিভাবক প্রতিনিধি সোলাইমন কাদের, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সবুজ মিয়া, ৫নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ফরিদ উদ্দিন, ব্যবসায়ী আবুল খায়ের, আলোর পরশ লাইব্রেরীর আহ্বায়ক নাসির উদ্দীন মাস্টার, সায়দাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও সাংবাদিক এ.কে.এম সেলিম, সাংবাদিক হরুনুর রশিদ, দান সংগঠনের আতাউর রহমান, সমাজ সেবা সংঘের আহ্বায়ক এ.কে.এম মিলন, সদস্য এ.কে.এম পলাশ, শহিদুল আলম শান্ত, আলোর পরশ লাইব্রেরীর মো. আসাদ, মানিক নগর রোকেয়া ফাউন্ডেশনের সোহরাব হোসেন বাবু, শফিকুল ইসলাম মাস্টার, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর নগর ব্লাড ডোনেশনের সদস্য ও বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যবৃন্দ প্রমূখ।