নরসিংদী প্রতিনিধি:
ঢাকা বিভাগীয় “অদম্য নারী ২০২৫” সম্মাননা পুরস্কার পেয়েছেন একই পরিবারের মা ও মেয়ে। এ ঘটনায় নরসিংদী জেলায় আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নরসিংদী জেলার তানজিনা আক্তার নীলা অদম্য নারী পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। অন্যদিকে সফল জননী হিসেবে বিভাগীয় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী পুরস্কার অর্জন করেছেন তার মা নাছরিন আক্তার (ভৈরব, কিশোরগঞ্জ)।
সোমবার (২ মার্চ) বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত ঢাকা বিভাগীয় অদম্য নারী ২০২৫ পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব গাজী গোলাম তৌসিফ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) জিনাত আরা, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) সালমা আক্তার এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক রেজিনা আরজু লাভলী।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে বিভাগের ১৩টি জেলার মোট ৫৭ জন নারীকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে অদম্য নারী সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।
নরসিংদী জেলার পাঁচটি ক্যাটাগরিতে পাঁচজন নারী সম্মাননা লাভ করেন। তারা হলেন—
সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদানের জন্য খালেদা পারভীন (আমীরগঞ্জ, রায়পুরা)
অর্থনৈতিক সাফল্যের জন্য সুমাইয়া আক্তার (লেবুতলা, মনোহরদী)
শিক্ষা ও চাকরিতে সাফল্যের জন্য তানজিনা আক্তার নীলা (রাধানগর, রায়পুরা)
নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে জীবনসংগ্রামী নারী হিসেবে শংকরী রানী সূত্রধর (নরসিংদী পৌরসভা)
সফল জননী হিসেবে জোস্না বেগম (বাঁশগাড়ি, রায়পুরা)
উল্লেখ্য, তানজিনা আক্তার নীলা গৌকুলনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য সম্মাননা পাওয়া খালেদা পারভীন আমীরগঞ্জ ইউনিয়নের পরপর তিনবার এবং রায়পুরা উপজেলা পরিষদের পরপর দুইবার সংরক্ষিত সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা মরশেদ আলমের সহধর্মিণী এবং রায়পুরা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকার সাংবাদিক এস এম শরীফ মিয়ার মা। ব্র্যাকের স্বাস্থ্যসেবিকা হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করার পাশাপাশি তিনি বিনামূল্যে কয়েকশত নারীকে সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করে তুলেছেন। এলাকায় তিনি ‘সেবার ফেরিওয়ালা’ হিসেবে পরিচিত।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, “নারীদের অবদান কখনও অস্বীকার করার সুযোগ নেই। সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে তাদের ভূমিকা অপরিসীম।”
অনুষ্ঠান শেষে রায়পুরার পরিচয় জানতে পেরে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, রায়পুরায় টেটা যুদ্ধ ও সহিংসতা বন্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি খুনাখুনি ও সংঘাতমুক্ত শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।